Breaking News
Home / বাংলা টিপস্ / নিম পাতার সব উপকারতা সর্ম্পকে জেনে নিন ।

নিম পাতার সব উপকারতা সর্ম্পকে জেনে নিন ।

নিম একটি ঔষধি গাছ। যার ডাল, পাতা, রস সবই কাজে লাগে। নিম ভা[ইরাস ও ব্যাকটেরি[য়া নাশক হিসেবে নিম খুবই কার্যকর। আর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও এর জুড়ি মেলা ভার। নিম পাতার উপকারিতা লিখে হয়তো শেষ করা যাবে না।

বাঙালি নিম পাতা প্রিয় মানুষ। তাই বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ নিম পাতা খেতে ভালোবাসে। তাই অনেকে ইন্টারনেটে নিম পাতার উপকারিতা ও নিম পাতা খাওয়ার সঠিক সময় জানতে চেয়ে অনুসন্ধান করে।

চলুন জেনে নেয়া যাক নিম পাতার উপকারিতা –চুল : উজ্জ্বল, সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন চুল পেতে নিম[পাতার ব্যবহার বেশ কার্যকর। চুলের খুসকি দূর করতে শ্যাম্পু করার সময় নিমপাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে চুল ম্যাসেজ করে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। খুসকি দূর হয়ে যাবে। চুলের জন্য নিম পাতার ব্যবহার অদ্বিতীয়। সপ্তাহে ১ দিন নিমপাতা ভালো করে বেটে চুলে লাগিয়ে ১ ঘণ্টার মতো ‘রাখুন। এবার ১ ঘণ্টা পর ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন চুল পড়া কমা’র সঙ্গে সঙ্গে চুল নরম ও কোমল হবে।নিম পাতার উপকারিতা

ত্বক : বহুদিন ধরে রূপচর্চায় নিমের ব্যবহার হয়ে আসছে। ত্বকের দাগ দূর করতে নিম খুব ভালো কাজ করে। এছাড়াও এটি ত্বকে ময়েশ্চারাইজার হিসেবেও কাজ করে। ব্রণ ‘দূর করতে নিমপাতা বে’টে লাগাতে পারেন। মাথার ত্বকে অনেকেরই চুলকানি’ ভাব হয়। নিমপাতার রস মাথায় নিয়মিত লাগালে এই চুলকানি কমে। নিয়মিত নিমপাতার সঙ্গে কাঁচা হলুদ পেস্ট করে লাগালে ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি ও স্কিন টোন ঠিক হয়।

দাঁতের রোগ : দাঁতের সুস্থতায় নিমের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করার প্রচলন রয়েছে সেই প্রাচীনকাল থেকেই। নিমের পাতা ও ছালের গুড়া কিংবা নিমের ডাল দিয়ে নিয়মিত দাঁত মাজলে দাঁত হবে মজবুত, র’ক্ষা পাবেন দন্ত রোগ থেকেও।
কৃমিনাশক : পেটে কৃমি হলে শিশুরা রোগা হয়ে যায়। পেটে বড় হয়। চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। বাচ্চাদের পেটের কৃমি নির্মূল করতে নিমের পাতার জুড়ি নেই।

গবেষণায় দেখা গিয়ে’ছে, নিম এবং হলুদের মিশ্রণ ত্বকের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী রোগের লক্ষ্যণগুলি নির্মূল করে। আলসার কিংবা ত্বকের যেকোনো দাগ-এর চিকিৎসা নিম দিয়ে করা হয়ে থাকে।
তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারী যারা তাদের ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা হল ব্রণ। তবে এক্ষেত্রে এটি নিরাময়ের জন্য হাতের কাছেই রয়েছে নিমপাতা। পাশাপাশি যে সমস্ত ব্রনর কারনে ব্রে’কআউট ত্বকে দেখা যায় সে গুলির সমাধানেও নিমপাতা ব্যাবহার করতে পারে। নিম পাতা এবং হলুদের পেস্ট নিয়মিত ব্যবহার করার ফলে মুখে ব্রনর দাগ কমে যেতে সহায়তা করে এবং এটি ত্বককে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং উজ্জ্বল করে তোলে।
চুল পরিচর্যায় নিমের উপকারিতা

সুন্দর স্বাস্থ্যোজ্জ্বল পরিষ্কার চুলের ‘স্বপ্ন সবারই থাকে। কিন্তু উকুন এবং খুশকির মতো সমস্যাগুলি চুল সুস্থ থাকতে দেয় না। তাই চুলের সৌন্দর্য প্রদানে নিম পাতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিমপাতার ব্যাবহারের ফলে চুল’ থেকে উকুন-এর সমস্যা দূর হয়।
মাথার ত্বক অত্যধিক শুষ্ক কিংবা তৈলাক্ত যাই হয়ে যাক না কেন আমাদের খুশকির সমস্যা দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে নিম পাতার মধ্যে ব্যাকটেরিয়া নাশক ও ছত্রাক” নাশক উপাদান থাকা’র জন্য এটি চুলের চি’কিৎসায় কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে।
নিমের পুষ্টিগুণ

এক কাপ নিমপাতার পুষ্টিগত মান :

নিমপাতার পুস্তীগুণ উপকারিত মান

নিম পাতার ব্যবহার-জেনে নিন নিম পাতার সঠিক ব্যবহার। নিচে বিস্তারিত দেয়া হল –

১) ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, হজম সংক্রান্ত সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ এ ধরনের সমস্যা গুলোর ক্ষেত্রে নিম পাতার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

২)সকাল বেলা খালি পেটে নিম পাতার ব্যবহার করতে পারেন কিংবা খাদ্যতালিকায় নিমপাতা সিদ্ধ রাখতে পারেন।

৩) দৈনিক নিমপাতার গ্রহণ করার ফলে শরীর থেকে জীবা’ণু মুক্ত থাকবে। তাই প্রতিদিন নিম গ্রহণ করতে পারেন।

৪) এছাড়াও যারা হাঁপানির সমস্যায় ভুগছেন তারা প্রতি’দিন কয়েক ফোঁটা নিম তেল পান করতে পারেন।

৫) কিংবা যারা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগ’ছেন তারা নিমপাতা সিদ্ধ খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন।

৬) এছাড়াও নিমপাতা র’ক্তে শর্করার পরি’মাণ হ্রাস করতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে ডায়াবেটিস রোগীরা ও তার খাদ্যতালিকায় নিমপাতা রাখতে পারেন।

৭) এছাড়া দাঁত এবং মাড়ি’র ক্ষেত্রেও নিমপাতার ব্যবহার হয়ে থাকে। তবে অবশ্যই নিম পাতা ব্যবহার করার আগে আপনার রোগ অনুযায়ী আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নেবেন যে এটি আপনার শরীরে কার্যকর কিনা।

৮) আবার ত্বক পরিচর্যার ক্ষেত্রে নিম পাতার ভূমিকা অনস্বী’কার্য। ত্বকের যেকোনো ধরনের সমস্যা যেমন ব্রন, র্সযা ফুসকুড়ি ইত্যাদি সমস্যাগুলির ক্ষেত্রে নিম পাতার ব্যবহার করা যেতে পারে।

৯) সেক্ষেত্রে নিমপা’তা দিয়ে ঘরে টোনার, ফেসপ্যাক তৈরি করে নিয়ে ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। এটি খুব কম সময়ের মধ্যেই আপনার ত্বককে সুস্থ এবং সুন্দর করে তুলতে সহায়তা করবে।

১০) চুলের সমস্যার ক্ষেত্রে ও নিমপাতার ব্যবহার করা যেতে পারে। চুলকে উজ্জ্বল এবং স্বাস্থ্য সম্মত করে তোলার জন্য চুলে নিম পাতার তেল, নিম পাতার প্যাক কিংবা নিমপাতা দিয়ে ‘ঘরোয়া পদ্ধতিতে সিরাম তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন।

নিম সর্বস’ম্মতভাবে আপনাকে স্বাস্থ্য রক্ষায় এবং সুন্দর থাকতে সহায়’তা করবে। আরও পড়ুন:লিভার ক্যান্সার কেন হয়? হলে কীভাবে বুঝবেন
নিম পাতা সেদ্ধ পানি গোসলের পানির সাথে মিশিয়ে নিন। যাদের স্কিন ইরি’টেশন এবং চুলকানি আছে তাদের এতে আরাম হবে আর গায়ে দুর্গন্ধের ব্যাপারটাও কমে যাবে আশা করা যায়। নিম পাতার উপকারিতা অ্যালা’র্জি-এলা’র্জির সঙ্গে আমরা কম-বেশি সবাই পরিচিত। এলা’র্জির কারণে যখন-তখন অস্বস্তিতে ভোগেন অনেকেই। এলার্জি শুধু চুলকানি নয়, হাঁচি-কাশি কিংবা হাঁপা’নিও এলার্জির মধ্যে পড়ে। এর সমস্যা যে কতোটা ভয়ঙ্কর, তা শুধু ভু’ক্তভো’গীরাই জানেন।

চর্মরোগ, হাঁপানি ও নাক দিয়ে পানি পড়া বা হাঁচির সমস্যাও হয় এলার্জির কারণে। তাই থেকে মুক্তি পেতে অনেকে নিয়মিত ওষুধ খেয়ে থাকেন। তবে ওষুধ ছাড়াও এলা’র্জি দূর করা সম্ভব। নিম পাতার মিশ্রণে এক মাসের মধ্যে সহজ উপায়ে এলার্জিকে চিরবিদায় করা যায়।

নিম পাতার অপকারিতা’
১) ছোট বাচ্ছা’দের ক্ষেত্রে নিম তেলের ব্যবহার কিংবা নিম তেল খাও’য়া মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এর পা’র্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে বমি ভাব, দুর্বলতা মস্তিষ্কের ব্যাধি দেখা দিতে পারে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষে’ত্রে শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

২) গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে নিম পাতা সহায়ক নয়। এটি গর্ভপাতের অন্যতম কারণ হতে পারে। এছাড়াও প্রসূতি মহিলাদের ও নিমপাতা থেকে দূরে থাকা উচিত। এর ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত।

৩) আপ’নার যদি অটো ইমিউন থাকে সে ক্ষেত্রে আপনি নিম পাতার ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। কেননা আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা টিকে খুব সক্রিয় করে তোলে। যার ফলে যারা অটো’ইমিউন রোগের শিকার তাদের ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

৪) যারা নিম্ন রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে নিমপাতা ব্যবহার করা যথাযথ নয়। এটি কেননা রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। তাই যাদের নিম্ন রক্তচাপ রয়েছে তারা’ নিমের ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

৫) নিম অনেক সময় বন্ধ্যাত্বতার কারণ হতে পারে। তাই যারা সন্তানের পরিকল্পনা করছেন তারা নিম থেকে দূরে থাকুন।

৬) এছাড়াও কোন শল্যচিকিৎসার আগে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ আগে থেকে নিমের ব্যবহার বন্ধ করে দিন।

৭) মনে রাখবেন দিনে দুটোর বেশি নিমপাতা একেবারে খাওয়া উচিত না। বেশি পরিমাণে এটি গ্রহণ করা শুরু করলে উপকারের বদলে অপকার হবে।

৮) এছাড়া নিমপাতা গ্রহ’ণের পরে যদি বমি, ডায়েরি’য়া, মাথাব্যথা সমস্যাগুলি হয় সে ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে তা ব্যবহার বন্ধ করে দিতে হবে।

৯) এছাড়া আপনার শরীরে আপনার প্রয়ো’জন অনুযায়ী টানা কতদিন নিম পাতা খাওয়া যেতে পারে সেটা এক’জন বিশেষজ্ঞের থেকে জেনে নেওয়া উচিত। কারণ একনাগাড়ে এটি খেতে থাকলে শরীরের নানা ক্ষতি দেখা যায়।

সর্বশেষ কথা আশা করি আজকের পোস্ট এর সাহায্যে সবাই নিম পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। আপনাদের যদি নিম পাতার উপকারিতা ও অ’পকারিতা পোস্ট ভালো লেগে থাকে। তাহলে অবশ্যই স’বার সাথে শেয়ার করবেন। যাতে সবাই নিম পাতা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারে।

Check Also

তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছলে যেসব ক্ষ’তি হয়

মুখ ধোয়ার পরে তোয়ালে দিয়ে মুখ মোছা স্বাভা’বিক প্রক্রিয়া। তা থেকে কীভাবে সমস্যা হতে পারে? …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *