Breaking News
Home / অন্যান্য / টাকা বিক্রি করেই ঘুরে জীবনের চাকা

টাকা বিক্রি করেই ঘুরে জীবনের চাকা

গ্রাম-গঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বটবৃক্ষের ছায়ায় সপ্তাহে দু-এক দিন হাট বসে এটা সকলেই জানেন, কিন্তু টাকার হাট বসে এটা হয়তো এই প্রথম শুনলেন। হ্যাঁ- নতুন টাকা বিক্রির হাটও রয়েছে। যেখানে বান্ডেলে বান্ডেলে চকচকে নতুন নোট নিয়ে বসে থাকেন বিক্রেতারা।

রাজধানীর কয়েকটি স্থানে বসে এই টাকার হাট। রাজধানীর গুলিস্তানের পাতাল মার্কেটের সামনে এবং মতিঝিল বাংলাদেশ ব্যাংকের উত্তর দিকের সড়কের পাশে বসে নতুন টাকার হাট।

কারো যদি চকচকে নতুন টাকার প্রয়োজন হয়, এই হাট থেকে দরদাম করে কিনতে পারবেন। এখানে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা।

গুলিস্তান সরেজমিনে দেখা যায় টাকার হাটে বিক্রেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ছোট টুলের মধ্যে নতুন টাকা সাজিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা। কেউ ছেঁড়া নোট দিলে তা যাচাই করে দামদর করে নতুন টাকা দিচ্ছেন দোকানিরা। প্রায় ৫০ বছর ধরে রাজধানীর গুলিস্তান পাতাল মার্কেটের সিঁড়ির সামনের ফুটপাতে এ হাটটি চলে আসছে। কম দামে টাকার বিনিময়ে নতুন টাকা,

নতুন টাকার বিনিময়ে ছেঁড়া ও পুরান টাকা বিক্রি হচ্ছে এ ফুটপাতে। কেউ দীর্ঘ দিন, কেউবা নতুন করে যুক্ত হচ্ছেন এই ব্যবসায়। এই ব্যবসা দিয়ে ঘর-সংসার চলে সবার। দুই টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত সবধরনের নোটের নতুন বান্ডেল পাওয়া যাচ্ছে গুলিস্তানের এই টাকার হাটে। যারা ছেঁড়া টাকা চালাতে পারে না তাদের কাছ থেকে টাকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম মূল্যে নোটগুলো কিনে নেন এই ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, উৎসব মৌসুমে তাদের টাকা বেচা-বিক্রির ব্যবসা জমে ওঠে। বিশেষ করে দুই ঈদে এর চাহিদা থাকে বেশি। সে সময় একজন ব্যবসায়ী টাকা বিক্রি করে কমপক্ষে এক লাখ টাকা আয় করেন। বছর জুড়ে যে আয় হয় তার অর্ধেক আয় হয় দুই ঈদের সময়ে। কিন্তু করোনা পরবর্তী সময়ে বাজারের অবস্থা খুবই খারাপ যদিও আস্তে আস্তে ভালো হচ্ছে।

দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে রাজধানীর গুলিস্তানে পাতাল মার্কেটের সামনে টাকার ব্যবসা করেন নোয়াখালীর মো. জাহাঙ্গীর। তিনি জানান, দীর্ঘ দিন ধরে তিনি টাকার ব্যবসা করছেন। এই ব্যবসায় যে আয় হয় তা দিয়েই তিনি তার সংসার পরিচালনা করেন আসছেন। করেনার কারনে দোকান বন্ধ থাকায় খুবই বিপাকে পরতে হয় তার। করোনা পরবর্তী সময়ে দোকান খুললেও এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেন তারা। মো. হাসান বলেন, দুই ঈদের সময় ব্যবসা বেশি হয় আমাদের। অন্য সময় ছেঁড়া-ফাঁড়া নোটের ব্যবসা থাকে। করোনার কারনে দীর্ঘ দিন দোকান বন্ধ থাকায় আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। ব্যবসায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারলে ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

Check Also

আপনি জানেন কি ঘুমের মধ্যে লালা ঝরা মা’রাত্মক রো’গের লক্ষণ

নি’শ্চয়ই খেয়াল করেছেন, ছোট বাচ্চারা ঘুমালে তাদের মুখ থেকে লালা ঝরে বালিশ ভিজে যায়। এই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *