Breaking News
Home / ইসলাম / ২০০ কেজি সোনা দিয়ে তৈরি সর্ববৃহৎ কোরআনের কপি দুবাইয়ে

২০০ কেজি সোনা দিয়ে তৈরি সর্ববৃহৎ কোরআনের কপি দুবাইয়ে

দুবাইয়ের প্রদর্শনীতে দেখা যাবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ পবিত্র কোরআনের কপি। আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া অ্যাক্সপো ২০২০ দুবাই প্রদর্শনীতে থাকছে ২০০ কেজি সোনা ও দুই হাজার কেজি অ্যালুমিনিয়ামে তৈরি পবিত্র কোরআন।

পাকিস্তানি শিল্পী শহিদ রাসাম ও ৪০০ শিক্ষার্থীর টিম ঐতিহাসিক এ শৈল্পিক কাজের আঞ্জাম দিয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর, রবিবার সোনার তৈরি সর্ববৃহৎ কোরআন নিয়ে পাকিস্তান এসোসিয়েশন দুবাই (পিএডি) এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। পিএডি-এর প্রধান ড. ফয়সাল ইকরাম, দুবাই ভিত্তিক উদ্যোক্তা ইরফান মুস্তফা, শিল্পী শহিদ রাসামসহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় কর্পোরেট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, সাধারণত কাগজ, কাপড় বা চামড়ার ওপর পবিত্র কোরআন খোদাই করা হয়। কিংবা অ্যালুমিনিয়াম ও সোনার প্রলেপ দিয়ে ক্যানভাসে কোরআনের সর্ববৃহৎ কপি খোদাই করা হয়। তবে ইসলামের ১৪০০ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম অ্যালুমিনিয়ামে কোরআন খোদাই করা হয়।

শিল্পী রাসাম জানান, বিশ্বের সবচেয়ে বড় খোদাই করা পবিত্র কোরআনের প্রকল্পটি একটি অনন্য প্রকল্প। ফ্রেম ছাড়া এই পবিত্র কোরআনের কপিটির দৈর্ঘ্য ৮.৫ ফুট। প্রস্থ ৬.৫ ফুট। এই পবিত্র কোরআনের মধ্যে ৮০ হাজার শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। প্রতি পৃষ্ঠায় ১৫০ শব্দ থাকবে। আর মোট ৫৫০ পৃষ্ঠায় তৈরি হবে এই কোরআন। এতে ২০০ কেজি সোনা ও দুই হাজার কেজি অ্যালুমিনিয়ান ব্যবহৃত হয়। দ্য আর্টস কাউন্সিল ইনস্টিটিউট অব আর্টস অ্যান্ড কার্ফটসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শিল্পী রাসাম করাচির চারুকলা। সম্পূর্ণ ভিন্নতর নতুন এ কর্ম উপহার দেওয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন এ শিল্পী। নানা রকম সৃজনশীল শৈল্পিক কর্মের মাধ্যমে সবাইকে তাক লাগিয়ে আসছেন তিনি।

তিনি শিল্পী আরো জানান, সব সময় চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন। আর তাই সর্বদা নতুন বিষয় নিয়ে কাজ করেন। চার বছর আগে এ প্রকল্পটি তিনি শুরু করেন। ৫৫০ ক্যানভাসে পবিত্র কোরআন শেষ করার কাজটি এখনও চলমান আছে। জানা যায়, প্রাকৃতিক মূল্যবান পাথর ও অ্যালুমিনিয়ামে সোনার প্রলেপ দেওয়া পবিত্র কোরআনের কপিটি আগামী এক হাজার বছর স্থায়ী হবে। পবিত্র কোরআনের অনেক অধ্যায় শেষ হলেও এক্সপো ২০২০-এর সময়ে শুধুমাত্র একটি অধ্যায় প্রদর্শনে থাকবে। পাঁচ পৃষ্ঠায় লেখা সুরা আর রহমান অধ্যায়টি প্রদর্শনীর পাকিস্তান প্যাভিলিয়ন কিংবা আলোচনা সাপেক্ষে অন্য কোনো সাইটে দেখা যাবে।

এই বিশাল কাজটি প্রথম দিকে রাসাম নিজেই শুরু করেন। তবে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে আরো ২০০ শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেন। প্রকল্পের একটি অংশ এবারের দুবাই এক্সপো ২০২০-এর প্রদর্শনীতে থাকবে। ২০২৫ সালের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করতে তারা কাজ করে যাচ্ছে। পাকিস্তান এসোসিয়েশন দুবাই-এর প্রধান ড. ইকরাম বলেন, একজন পুরস্কারপ্রাপ্ত পাকিস্তানি প্রবাসী শিল্পী এমন দুর্দান্ত কাজ করায় আমরা সত্যিই গর্বিত। এ সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া প্রদর্শনীতে এমন শৈল্পিক কর্ম প্রদর্শনে রাখতে পাকিস্তান এসোসিয়েশন দুবাই ধরনের সহায়তা করবে। দুবাই ভিত্তিক উদ্যোক্তা শীর্ষ কর্পোরেট কর্মকর্তা ইরফান মুস্তফা বলেন, রাসাম একজন প্রসিদ্ধ শিল্পী। নিজের সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে তিনি সবার কাছে পরিচিত। আমি নিশ্চিত যে শিল্পী শহিদ রাসাম শুরু হতে যাওয়া এক্সপো ২০২০ দুবাইয়ে মানসম্মত শিল্পকর্ম নিয়ে আসবেন।
অনন্য শৈল্পিক কারুকার্য তৈরি করে শহিদ রাসাম বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন। এর আগে রাসাম অ্যালুমিনিয়াম ও সোনার প্রলেপ দেওয়া প্লটে আল্লাহর ৯৯ নাম লিখে সবার নজর কাড়েন। গিনেস রেকর্ড অনুসারে, সবচেয়ে বড় মুদ্রিত কোরআনের কপি উচ্চতায় ৬.৭৪ ফুট ও প্রস্থে ৪.১১ ফুট এবং এর ঘনত্ব ৬.৬৯ ফুট। এতে ৬৩২ পৃষ্ঠা রয়েছে, যার ওজন ৫৫২.৭৪ কেজি।

বিশ্ব প্রদর্শনীর আয়োজক হিসেবে দুবাই এক্সপো ২০২০ গত বছরের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে তা পিছিয়ে এ বছরের প্রথম অক্টোবরে শুরু হবে। ২০২২ সালে ৩১ মার্চ আন্তর্জাতিক এ প্রদর্শনী শেষ হবে। শিল্প-সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রদর্শনীতে বিশ্বের ১৯২টি দেশ অংশ নেবে।

সূত্রঃ ডেইলি বাংলাদেশ

Check Also

কুমিল্লায় মন্দিরে ‘কোরআন অবমাননার ঘটনায়’সারাদেশে বিজিবি মোতায়েন!…

কুমিল্লায় মন্দিরে ‘কোরআন অবমাননার ঘটনায়’ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সারাদেশে মোতায়েন করা হয়েছে বর্ডার গার্ড …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *