Breaking News
Home / ইসলাম / তিন শ্রেণীর মানুষকে আঘাত করলে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠে

তিন শ্রেণীর মানুষকে আঘাত করলে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠে

ইসলাম সকল শ্রেণীর মানুষের অধিকারের বি’ষয়ে গু’রুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। সমাজের যারা প্রতিব’ন্ধী দের অবহেলা ও অবজ্ঞার চোখে দেখে, তাদের মনে রাখা দরকার, (আল্লাহ না করুন) বিভিন্ন দু’র্ঘটনা ও অ’সুস্থতার কারণে একজন সুস্থ-সবল মানুষও যে কোনো সময় শারীরিক সক্ষ’মতা হারিয়ে প্রতিব’ন্ধী হয়ে যেতে পারে।

তাই প্রত্যেক সুস্থ মানুষের উচিত, শারীরিক সুস্থতার জন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতার পাশাপাশি প্রতিব’ন্ধী দের প্রতি সহমর’্মিতার হাত বাড়ানো। কারণ তাদেরও অধিকার রয়েছে স্বাভা’বিক জীবনযাপনের।

ইসলাম প্রতিব’ন্ধী দের প্রতি সচেতন হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের (বিত্তশালী)

ধনসম্পদে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।’ –সূরা জারিয়াত : ১৯ প্রতিব’ন্ধী , পাগল, অবলা বা নারীদের শরীরে আঘা’ত করলে আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠে। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) সমাজের সব শ্রেণীর মানুষকে সমান চোখে দেখতেন।

মৃ’দু বাকপ্রতিব’ন্ধী সাহাবি হজরত বেলালকে (রা.) মসজিদে প্রথম মোয়াজ্জিন নিয়োগ দিয়েছিলেন। দৃ’ষ্টিপ্রতিব’ন্ধী সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুমকে (রা.) নবী করিম (সা.) দু’দু’বার ম’দিনার অ’স্থায়ী শাসনক’র্তা নিযুক্ত করেন।

এমনকি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) যখনই তাকে (আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম) দেখতেন, তখনই বলতেন, ‘স্বাগতম জানাই তাকে, যার সম্পর্কে আমা’র আল্লাহ আমাকে ভর্ৎসনা করেছেন।’

উল্লেখ্য যে, নবী করিম (সা.) সাহাবি আবদুল্লাহ উম্মে মাকতুমকে (রা.) কোনো এক বি’ষয়ে অগ্রাধিকার না দেয়ায় আল্লা’হতায়ালার সতর্কীকরণের মুখে পড়েন।

ঘটনাটি হলো- একদা নবী করিম (সা.) কোরাইশ নেতাদের সঙ্গে গু’রুত্বপূর্ণ বি’ষয়ে আলোচনারত ছিলেন। এমতাবস্থায় অন্ধ সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.) সেখানে উপস্থিত হয়ে নবী করিমকে (সা.) দ্বীন সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এতে আলোচনায় ব্যাঘা’ত সৃ’ষ্টি হলে নবী করিম (সা.) কিঞ্চিৎ বির’ক্তি প্রকাশ করেন।

নবী করিম (সা.) মক্কার জাত্যভিমানী কোরাইশদের মন রক্ষার্থে অন্ধ সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুমের প্রতি তখন ভ্রু’ক্ষেপ করলেন না। কিন্তু আল্লাহর কাছে এ বি’ষয়টি পছন্দনীয় হলো না।

সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিব’ন্ধী দের অধিকারবি’ষয়ক পবিত্র কোরআনে কারিমের আয়াত নাজিল হয়; যাতে তাদের প্রতি ইসলামের কোমল মনোভাবের প্রকাশ পেয়েছে।

ওই আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘সে ভ্রুকুঞ্চিত করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল, কারণ তার কাছে অন্ধ লোকটি এল। তুমি কেমন করে জানবে, সে হয়তো পরিশু’দ্ধ ‘হতো অথবা উপদেশ গ্রহণ করত।

ফলে উপদেশ তার উপকারে আসত।’ -সূরা আবাসা : ১-৪ এরপর থেকে নবী করিম (সা.) প্রতিব’ন্ধী দের বি’ষয়ে সতর্ক হয়ে যান। তাদের প্রতি ভালোবাসা বাড়িয়ে তাদের বিশেষ গু’রুত্ব দিতে থাকেন।

প্রতিব’ন্ধী দের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন নবী করিমের (সা.) সুন্নতও বটে। যেখানে নবীকে (সা.) আল্লাহ সতর্ক করেছেন, সেখানে সাধারণ মানুষ প্রতিব’ন্ধী দের প্রতি উদাসীনতা দেখালে নিশ্চয়ই আল্লাহ অ’সন্তু’ষ্ট হবেন, এটা বলাবাহুল্য।

মানুষ সৃ’ষ্টির সেরা জীব। সমাজে সেই মানুষেরই একটা অংশ প্রতিব’ন্ধী । তারা আমা’দের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাছাড়া প্রতিব’ন্ধী দের প্রতি সহমর’্মিতা পরকালে মুক্তির উসিলা।

মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার ন্যূনতম মৌলিক অধিকারগু’লো তাদেরও ন্যায্যপ্রাপ্য। তাই প্রতিব’ন্ধী দের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা প্রদর্শন ও সহানুভূ’ত িশীল হওয়া অ’ত্যাব’শ্যক।

যেমননি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমর’া ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও, অ’সুস্থ (প্রতিব’ন্ধী ) ব্যক্তির খোঁজ’খবর নাও এবং বন্দীকে মুক্ত করে দাও।’ –সহিহ বোখারি। সূত্র: অনলাইন থেকে সংগৃহীত।

Check Also

কুমিল্লায় মন্দিরে ‘কোরআন অবমাননার ঘটনায়’সারাদেশে বিজিবি মোতায়েন!…

কুমিল্লায় মন্দিরে ‘কোরআন অবমাননার ঘটনায়’ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সারাদেশে মোতায়েন করা হয়েছে বর্ডার গার্ড …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *